Children Communication Network আমার লেখা,প্রতিবেদন সুনিশ্চিত হোক শিশুর অধিকার

সুনিশ্চিত হোক শিশুর অধিকার

মুসাহিদ উদ্দিন আহমদ :::

বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অনেক অনগ্রসর দেশ থেকে দরিদ্র-অসহায় শিশুদের নিয়ে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের মরুপ্রান্তরে উটের রেস খেলার জকি বানানো হতো। নির্মম এ খেলায় শিশুদের জোরপূর্বক উটের পিঠে বেঁধে রেস শুরু হতেই ওদের কান্নার ভয়ার্ত শব্দ শুনে উট আরও জোরে দৌড়াতে শুরু করত। ফলে শিশুরা উটের পিঠ থেকে পড়ে গিয়ে প্রায়ই আহত হতো। বাংলাদেশে এর চেয়েও কিছু নির্মম কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে দরিদ্র, অসহায়, অধিকারবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের। ওদের ঠেলে দেয়া হচ্ছে মৃত্যুর মুখে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নামে পরিচালিত মিছিলে, সড়ক অবরোধের কর্মকাণ্ডে শিশুদের ব্যবহার করা হচ্ছে। ওরা থাকে মিছিলের অগ্রভাগে, বহন করে প্ল্যাকার্ড, স্লোগান দেয়। কখনও ওরা বাসে, টেম্পোতে আগুন দেয়। ঢিল ছুড়ে বাসের জানালার কাচ ভাঙে। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর দিকে ঢিল ছুড়তে, পটকা-ককটেল নিক্ষেপ করতেও ওরা দ্বিধাবোধ করে না। ফলে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার শিকার হতে হয় ওদের। বাংলাদেশে একের পর এক শিশুকে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা চলছে হরদম। শিশু ধর্ষণের মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা পত্রিকায় প্রায় প্রতিদিনই শিরোনাম হচ্ছে। গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োজিত শিশুদের ওপর চালানো হচ্ছে অমানুষিক নির্যাতন। পাশাপাশি শিশুশ্রম দিন দিন বেড়ে চলছে এবং বর্তমানে আশংকাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত পরিবারগুলো তাদের ছেলে এবং কন্যাশিশুকেও যে কোনো ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত করছে। বাংলাদেশে মোট শিশু শ্রমিকের মধ্যে ১৩ লাখ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত। দেশের শিল্প-কারখানাসহ ছোট ছোট কারখানায় নানা ধরনের কাজ করানো হয় ৮ থেকে ১২ বছর বয়সের শিশুদের দিয়ে। এক তথ্যমতে, বাংলাদেশে বর্তমানে শতকরা ৯৪ ভাগ শিশু শ্রমিক কৃষি ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করছে। প্রায় ৪৭ লাখ শিশু শ্রমিকের মধ্যে ৫ থেকে ১৪ বছরের শিশুর সংখ্যা বেশি। আর ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সের প্রায় ৭৫ লাখ শ্রমজীবী শিশুর মধ্যে প্রায় ১৩ লাখ শিশু সপ্তাহে ৪৩ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ধরে কাজ করে থাকে। দিনে প্রায় ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা কাজের বিনিময়ে এরা নামমাত্র বেতন পায়। অথচ আন্তর্জাতিক শ্রম আইনে শ্রমিকদের দিনে ৮ ঘণ্টার বেশি খাটানো অপরাধ এবং ১৮ বছরের কম বয়সের শিশুদের দিয়ে এ ধরনের কাজ করানো সম্পূর্ণ নিষেধ। বিশ্ব শ্রমসংস্থার (আইএলও) এক সমীক্ষায় জানা যায়, বাংলাদেশে বর্তমানে ১৮ বছরের নিচে মোট শিশু শ্রমজীবীর সংখ্যা ৬৩ লাখ এবং এ সংখ্যা পৃথিবীর মোট শ্রমজীবী শিশুর ৫ শতাংশ। এসব শ্রমজীবী শিশু প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৪৮ ঘণ্টা কাজ করে এবং এদের প্রায় অর্ধেকই কোনো মজুরি পায় না (তথ্য : বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো)। কারখানা মালিকদের অধিক মুনাফা লাভের আশায় সেখানে চলে অমানবিক শিশুশ্রম।

ghgfh
দেশের শিশু শ্রমিকদের মধ্যে একটি বিশাল অংশ হচ্ছে কন্যাশিশু। এরা গৃহস্থালি কাজে স্বভাবতই মাকে সাহায্য-সহযোগিতা করে, যা পুত্রসন্তানরা করে না। কিন্তু কন্যাশিশুর এ ধরনের শ্রমের কোনো হিসাব করা হয় না। এর বাইরে দরিদ্র পরিবারের বেশির ভাগ কন্যাশিশুদের অন্যত্র গৃহভৃত্যের কাজে লাগানো হয়। সেখানে দু’বেলা দু’মুঠো খাবারের বিনিময়ে দিনরাত খাটতে হয়। এছাড়া নির্যাতন-নিপীড়ন তো রয়েছেই। এমনকি বাড়ির পুরুষ সদস্যের দ্বারা যৌন নিপীড়নের শিকার হতে হয় অনেক শিশুকে। আইএলও’র তথ্যমতে, প্রতিদিন প্রতি মিনিটে বিশ্বের কোথাও না কোথাও একজন শিশু শ্রমিক কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা, অসুস্থতা বা আঘাতের শিকার হচ্ছে। আরও জানা যায়, বিশ্বে প্রায় সাড়ে ১১ কোটি শিশু শ্রমিকের অর্ধেকেরও বেশি খনির কাজ থেকে শুরু করে নির্মাণ, কৃষি ও শিল্পোৎপাদনের কাজে নিয়োজিত এবং বিশ্বজুড়ে শিশু শ্রমিক, বিশেষত ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশু শ্রমিকের সংখ্যা অনেক বেশি। বিশ্বে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত মোট শিশুর ৫ দশমিক ৬ শতাংশই এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের।
জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ২০১৬ সালের মধ্যে শিশুশ্রম বন্ধের লক্ষ্য অর্জনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরেছে। শিশুশ্রম প্রতিরোধে শিশুশ্রমকে শিশুর মানবাধিকার লংঘনের শামিল মনে করে শিশুশ্রম প্রতিরোধে গৃহীত কার্যসূচিতে ২০১৬ সালের মধ্যে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমকে সম্পূর্ণ বন্ধ করার কর্মপন্থা নির্ধারিত হয়েছে। আইএলও’র সর্বশেষ তথ্যমতে, বিশ্বে আজ ২১৫ মিলিয়ন শিশু কোনো না কোনোভাবে শ্রমের সঙ্গে জড়িত। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক শিশু কঠিন শ্রমে লিপ্ত রয়েছে। কাজের প্রতিকূল পরিবেশ এসব শিশুর শারীরিক ও মানসিক বৈকল্য এনে দেয়, যা ধীরে ধীরে তাদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।
শিশুশ্রম প্রতিরোধ কার্যক্রম সফল করে তুলতে অবিলম্বে শিশুনীতি বাস্তবায়ন, ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুদের নিয়োগ বন্ধ করা, আইএলও কনভেনশন ১৮২ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন ও ১৩৮ অনুসমর্থন করাসহ পথশিশু, ছিন্নমূল শিশু ও শিশু শ্রমিকদের পুনর্বাসন দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে দারিদ্র্যই মূলত শিশুশ্রমের জন্য দায়ী। সম্পদের অপ্রতুলতা, অসম বণ্টন, সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচারের অভাব ইত্যাদি বাড়িয়ে দিচ্ছে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা। বেকারত্ব বাসা বাঁধছে সমাজের বিভিন্ন স্তরে। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে সামাজিক সুস্থ বিকাশের ধারা। শিশুশ্রম একদিকে যেমন শিশুর ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিচ্ছে, তেমনি অন্যদিকে সৃষ্টি করছে নানা সামাজিক সমস্যা। কন্যাশিশুদের গৃহকর্মী হিসেবে নিযুক্তি সৃষ্টি করছে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা। পিতৃগৃহে অভাব-অনটনের মাঝেও পরিবার-পরিজনের সান্নিধ্যে সামান্যতম সম্ভাবনায় বেড়ে ওঠার সুযোগ থেকে হচ্ছে বঞ্চিত তারা। অন্যদিকে পরের গৃহে কাজ করতে গিয়ে নির্যাতিত-নিপীড়ন হওয়া কন্যাশিশুরা মানসিক বৈকল্যের শিকার হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে ব্যর্থ হচ্ছে। আর যৌন নিপীড়িত বা ধর্ষণের শিকার হলে তো কথাই নেই। বাল্যবিয়ের কারণে কন্যাশিশুরা কাটাচ্ছে এক অভিশপ্ত জীবন।jhbhj
শিশু নির্যাতন বন্ধসহ সব ধরনের অন্যায়-অবিচার থেকে শিশুদের বাঁচাতে এবং শিশু অধিকার রক্ষা করতে, বিশেষ করে কন্যাশিশুরা যাতে কোনো ধরনের বঞ্চনার শিকার না হয়, তা সফল করাই কন্যাশিশু দিবস বা শিশু অধিকার সপ্তাহ পালনের মূল উদ্দেশ্য। শিল্প-কলকারখানার বিকাশ, উৎপাদন বৃদ্ধি ও ব্যাপক কর্মসংস্থানের প্রসার ছাড়া দারিদ্র্যবিমোচন সম্ভব নয়। আবার দারিদ্র্য নির্মূল ছাড়া শিশু নির্যাতন এবং শিশুশ্রমও বন্ধ করা যাবে না। কারখানায় প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়োগ নিশ্চিত করে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুদের নিয়োজিত করার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে কার্যকর করা প্রয়োজন। শিক্ষাবঞ্চিত নিুবিত্ত ও বিত্তহীন শিশুদের স্বল্পমেয়াদি কারিগরি প্রশিক্ষণদানের পর তাদের ঝুঁকিমুক্ত কাজের সংস্থানের জন্য সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর এগিয়ে আসতে হবে। বন্ধ করতে হবে বাল্যবিয়ে। শিশু নির্যাতন, বাল্যবিয়ে ও শিশুশ্রমের ভয়াবহতা সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করাও জরুরি। অধিকারবঞ্চিত শিশুদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব সমাজের বিত্তবান ও রাষ্ট্রকে নিতে হবে। শিশুদের সব ধরনের অধিকার সংরক্ষণে সরকারকে রাখতে হবে দায়িত্বশীল ভূমিকা। শিশুরা যে একটি জাতির সঞ্চালক শক্তি, তা উপলব্ধি করতে পারলে শিশু নির্যাতন এবং শিশুশ্রম বন্ধ করা সহজ হবে। শিশুদের লেখাপড়া, খাদ্য, স্বাস্থ্য ও মেধা বিকাশের জন্য অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলতে রাষ্ট্র এবং সমাজের রাখতে হবে দায়িত্বশীল ভূমিকা। দরিদ্র শিশুরাই সব সময় বিত্তবানদের অন্যায়-অবিচারের শিকার হয়। দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা ছাড়া শিশু নির্যাতন বন্ধ, শিশু অধিকার সুরক্ষা ও কন্যাশিশুদের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Post

কেন বলা হচ্ছে এ বছর সবচেয়ে বেশি গরম পড়বেকেন বলা হচ্ছে এ বছর সবচেয়ে বেশি গরম পড়বে

মো. জান্নাতুল নাঈম : আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম তাপমাত্রা রেকর্ড করা শুরু হয় ১৮৫০ সালে। সেই শুরুর সময় থেকে নিকট অতীত ঘেঁটে দেখা যায়, ২০২৩ সাল ছিল পৃথিবীর ইতিহাসের উষ্ণতম বছর। এমনটাই

বন্ধু হোক সন্তান!বন্ধু হোক সন্তান!

নিজের টেনশনের কথা চেপে না রেখে বরং ভাগ করে নিন ছেলেমেয়ের সঙ্গে। ওদের ভরসা জিততে গেলে ওদের বন্ধু হয়ে উঠুন। মনটা আজকাল ভাল থাকে না সায়ন্তনীর। অফিসে মনপ্রাণ ঢেলে কাজ করার পরেও যদি অফিস পলিটিক্সের শিকার হতে হয়, কারই বা মন ভাল থাকে? বাড়িতেও প্রিয়ম এসব কথা শোনায় আগ্রহ দেখান না সেভাবে। তিনি নিজের অফিস, বন্ধুবান্ধব নিয়েই ব্যস্ত, স্ত্রীয়ের সমস্যার ভাগ নেওয়ার জন্য খুব একটা সময় তাঁর হাতে থাকে না। আর মেয়ে নিকিতা তো নেহাতই ছোট, সবে ক্লাস এইট। তার সঙ্গে আর এসব কী আলোচনা করবেন সায়ন্তনী? ওই মেয়েকে নিয়েও হয়েছে তাঁর আর-এক জ্বালা। একটু বড় হওয়ার পর থেকে কারা যে মেয়ের বন্ধু, কাদের সঙ্গে সে মেশে… কিছুই আর বলে না মা’কে। আগে কত গল্প করত! এখন যে শেয়ার করা বন্ধ করে দিয়েছে নিকিতা, তাতেই বিপদে পড়েছেন সায়ন্তনী। মেয়েকে বোঝাতেও গিয়েছিলেন যে মায়ের সঙ্গে সবকিছু শেয়ার করা উচিত। সপাট জবাব দিয়েছে মেয়ে, “তুমি আমার সঙ্গে সব শেয়ার করো?” মুশকিলটা এখানেই। অনেক মা-বাবাই ভাবেন, ছেলেমেয়ে নেহাতই ছোট। নিজেদের কোনও কথা ওদের সঙ্গে শেয়ার করা যায় না। আবার আশা করেন, সন্তান এসে নিজেদের সব কথা বলবে তাঁদের। এমন একতরফা তো হয় না ব্যাপারটা! ওদের ভরসা পেতে গেলে আপনি যে ওদের ভরসা করেন, সেটা বুঝতে দিতে হবে। আপনি হয়তো ভাবছেন, ‘ভরসা করি না, কে বলল? কিন্তু নিজেদের সমস্যাগুলোর কথা ওদের বলে কী হবে? ওদের মনখারাপ হবে কেবল’। আপনার দিক থেকে দেখতে গেলে, খুব ভুল ভাবনাও নয়। মা-বাবারা তো চানই, যতদিন সম্ভব ছেলেমেয়েকে আগলে রাখতে। কোনও সমস্যা, কোনও কষ্টের আঁচ যাতে ওদের গায়ে না লাগে, তা নিশ্চিত করতে। কিন্তু জানেন কি, ওদের পৃথিবীটাও শুধুই হাসি-গান-আলো দিয়ে ভরা নয়? ওদেরও সমস্যা রয়েছে, যন্ত্রণা রয়েছে? সেগুলো হয়তো আমাদের বড়দের কাছে তেমন কিছু নয়, ওদের কাছে কিন্তু অনেকটাই! নিজেদের মতো করে সেগুলো সামলানোও ওদের কাছে যুদ্ধেরই মতো। সেই যুদ্ধে আপনাকে ওরা তখনই সঙ্গী করবে, যদি আপনিও নিজের লড়াইয়ে ওকে শামিল করেন। খুব বিরাট কিছু করতে হবে না। জাস্ট বাড়ি ফিরে ছেলেমেয়ের সঙ্গে খোলামনে গল্প করুন। সারাদিন কী কী হল, শেয়ার করুন। যদি কোনও সমস্যা হয়ে থাকে, সে কথাও। কী বলবেন, কতটা বলবেন, সেটা একান্তই আপনার উপর। অবশ্যই খুব জটিল কোন বিষয়ের ভার ওর উপর চাপিয়ে দেবেন না। কিন্তু ছোটখাটো সমস্যা বা কেউ আপনার কাজে অসুবিধা করছে… এ রকম বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। একেবারে ছোটদের কথা বলছি না, বুঝতেই পারছেন। স্কুলের একটু উঁচু ক্লাসে পড়ে, এমন বাচ্চাদের মধ্যে কিন্তু এগুলো বোঝার পরিণতিবোধ চলে আসে। তাদেরও কি আর ক্লাসে এরকম ছেলেমেয়ে থাকে না? এতে করে প্রথমত ওরা আপনাদের সঙ্গে নিজেদের রিলেট করতে পারবে। দ্বিতীয়ত, বুঝতে পারবে যে বাবা-মা ওকে বাচ্চা ভাবে না। গুরুত্ব দেয়। এই বিশ্বাসটা ওদের মধ্যে তৈরি হওয়া মানেই আপনিও ওর বিশ্বাস জিতে নিলেন! আগেই বলেছি, আপনার সন্তানও কিন্তু নিজের দুনিয়ায় নিজের মতো করে সমস্যা সামলায়। ফলে আপনার অনেক মুশকিলের সমাধান কিন্তু ও-ও নিজের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দিতে পারে। ধরুন অফিসে কেউ বিনা কারণে গসিপ করে আপনাকে নিয়ে। কিংবা কেউ অযথাই পেশাদারিত্বের গণ্ডি ডিঙিয়ে বেশি বন্ধুত্ব করতে চায় আপনার সঙ্গে। কাছাকাছি পরিস্থিতি হয়তো আপনার সন্তানের সঙ্গেও হয় ওর স্কুল বা কলেজে! তখন ও কী করে তা সামলায়? সেখান থেকেই হয়তো আপনিও কিছু ইনপুট পেয়ে গেলেন! তবে অবশ্যই সমস্যার গুরুত্ব বুঝে তা নিয়ে কথা বলুন। শুধু সমস্যার কথাই শেয়ার করবেন না নিশ্চয়ই। অফিসে আপনার যাঁরা বন্ধুবান্ধব রয়েছেন, তাঁদের ব্যাপারে গল্প করুন। কোনও চ্যালেঞ্জিং কাজের দায়িত্ব কীভাবে সামলান, সেই ঘটনা শেয়ার করুন। হালকা গসিপও চলতে পারে অবশ্যই। তবে কখনওই ঠাট্টার ছলেও অন্য কারও ব্যাপারে অসম্মানজনক মন্তব্য করবেন না। ওরাও কিন্তু তাহলে সেটাকেই ‘কুল’ ভেবে নেবে! ছেলেমেয়ের কাছ থেকে ওদের সারাদিনের কথাও জানতে চান। জানতে চাওয়ার মতো করে নয় কিন্তু। গল্পচ্ছলে। খুব কঠিনও হবে না ব্যাপারটা। আপনি যখনই ওদের সঙ্গে খোলামনে গল্প করবেন, ওরাও দেখবেন তা-ই করবে! নিজেদের জীবনের হাসি-মজার গল্পগুলোর পাশাপাশি সমস্যার কথাও ভাগ করে নেবে আপনার সঙ্গে। সকলে মিলে সমাধানের পথ খুঁজে বের করাও খুব কঠিন হবে না! তবে একটা জিনিস মাথায় রাখুন। সব বয়সের মানুষেরই নিজস্ব স্পেস লাগে। বয়ঃসন্ধির ছেলেমেয়েদের ক্ষেত্রে সেটা আরওই সত্যি। ওদের সেই স্পেসকে সম্মান করুন। যদি কোনও কথা ওরা বলতে না চায়, জোর করবেন না। ওদের সমস্যায় নিজেরা জড়িয়ে পড়বেন না। পথ দেখিয়ে দিন দরকার হলে, কিন্তু সামলাতে দিন ওদেরকেই। এগুলো জীবনের খুব জরুরি পাঠ। তবে কোনও ব্যাপারে যদি ওরা আপনাদের প্রত্যক্ষ সাহায্য চায়, সে কথা আলাদা। তখন তো পাশে থাকতেই হবে! মোট কথা একটাই। ছেলেমেয়েদের আর ছোট না ভেবে, বন্ধুর মতো করে মিশুন ওদের সঙ্গে। অনেক লাভ হবে তাতে। ওরা আপনাকে বিশ্বাস করবে। নিজেদের কথা আপনার সঙ্গে ভাগ করে নেবে। আর আপনারও ছোট-বড় সমস্যায় হয়তো নিজেদের মতো করে দিশা দেখাতে পারবে!

গণহত্যার কবলে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীগণহত্যার কবলে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী

(মূল: ড. হাবিব সিদ্দিকী 🙂 অনুবাদ : শাহবাজ নজরুল :: পূর্বকথা: রোহিঙ্গা সমস্যা সব সময়ই কেন যেন আমাদের দৃষ্টির আড়ালে থেকে গেছে। ইদানিং এই সমস্যা নিয়ে নানা জায়গাতে আলোচনা হচ্ছে