Children Communication Network আমার দেশ মাছের রাজা ইলিশ!

মাছের রাজা ইলিশ!

ইলিশ মাছ

ইলিশ মাছ

আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি ইলিশ ধরা পড়ে গোয়ালন্দে। কারণ এখানেই পদ্মা, মেঘনা আর যমুনা একসঙ্গে মিলেছে। তিন নদীর মোহনায় ইলিশরা খুব বেড়াতে আসে। আর এখানেই জেলেরা মাছ ধরতে নেমে যায়। এ ছাড়াও বরিশালের নদীগুলোতেও তো ইলিশ মৌসুমে মাছ ধরার ধুম পড়ে যায়। ইলিশ মৌসুম মানে হচ্ছে যে সময়টাতে ইলিশ ধরার ধুম পড়ে। এ সময়টা হচ্ছে বর্ষাকাল। সমুদ্রেও ইলিশ শিকারে যায় জেলেরা। তবে, সমুদ্রে তারা যায় ট্রলার আর বড়ো বড়ো নৌকায় করে। একসঙ্গে অনেক জেলে সমুদ্রে জাল ফেলে ইলিশ ধরে সেখানে। তবে কি জানো, ছোটো নৌকায় করে ইলিশ শিকারের মজাটাই আলাদা।

 

আগেই বলেছি, সমুদ্রে জেলেরা যায় বড় নৌকোয় করে। এক একটি নৌকায় ইলিশ শিকারি থাকে অনেকজন। তারা যখন ইলিশ মাছ ধরতে যায়, তখন তাদের ৭ দিন থেকে ১০-১১ দিনের খাবার-পানির সব আয়োজন করে যেতে হয়। মাছ ধরতে যাবার সময় নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস ছাড়াও রাখতে হয় বরফ। কারণ মাছ ধরে ডাঙ্গায় আসতে কতদিন লাগবে তার তো আর ঠিক নেই। জেলেরা সমুদ্রে প্রচুর ইলিশ ধরতে পারে। কারণ সমুদ্রেই তো ইলিশদের আসল বাড়ি। নদীতে তো কেবল বেড়াতে আর ডিম দিতে আসে। আর আমাদের দেশে বর্ষাকালে তো নদী পানিতে একদম টইটম্বুর হয়ে যায়। এসময় সবচেয়ে বেশি ইলিশ আসে আমাদের নদীতে।

একটা কথা কি জানো, অন্য দেশের নদীতেও কিন্তু ইলিশ যায় কিন্তু সেগুলো মোটেও আমাদের দেশের ইলিশের মতো খেতে মজা হয় না। তা কি করে হবে, আমাদের দেশের মাটি আর পানি বলে কথা! ইলিশ মাছেরা কি আর সব দেশের মাটি-পানি পছন্দ করতে পারে নাকি! রাজর্ষি মাছ না ওরা!

ইলিশ

ইলিশ

ইলিশের মধ্যে যেগুলো ছোটো বা শিশু ইলিশ ওদেরকে বলে জাটকা। তবে, গোয়ালন্দের স্থানীয় লোকেরা একে জাইতকা বা খয়রা মাছও বলে। কেউ কেউ আবার বলে উবলি। ছোটো আকারের ইলিশ শিকার করতে জেলেরা ছোটো ফাঁদের ভেসাল জাল ব্যবহার করে।  জেলেরা বলে কি, ‘নতুন জাল বুনলি ইলিশ ধরা যায় বেশি’। কেন তোমরা কি জানো? তার কারণ হচ্ছে, আমাদের যেমন কোনো চকচকে নতুন জিনিসের প্রতি টান থাকে, তেমনি ইলিশ মাছও বোকার মতো এ জালের সঙ্গে জড়িয়ে যায়। এরপর ফাঁসে আটকে গেলে নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে চেষ্টা করে। কিন্তু যতোই ছাড়িয়ে নিতে যায় ততোই মাছের পাখনাগুলো জালে আটকে যায়। আর তখনই মানুষের শিকারে পরিণত হয়। এজন্য সারা বছর ধরে জেলেরা জাল চকচকে করে রাখে। মাছ ধরা শেষে সারাদিন রোদে শুকোতে দেয়। তোমরা কখনও বেড়াতে গেলে দেখে এসো নদীর পাড়ে রোদে কতো বড়ো বড়ো জাল শুকোতে দেয়া আছে। এগুলো কিন্তু ইলিশ ধরার জাল। তবে, এখন আর জেলেরা ছোটো ইলিশ আর ধরে না। কারণ ছোটো মাছ ধরলে তা বড়ো হবে কি করে? আবার এই জাটকা ধরতে সরকারও নিষেধ করেছে। ধরলেই শাস্তি।

তবে, তুমি কিন্তু চাইলেই ইলিশ ধরতে পারবে না। ইলিশ মাছ ধরার বেশ কিছু নিয়মও আছে। সবচেয়ে বেশি দরকার হলো মাছ ধরার অভিজ্ঞতা। যে জেলে ইলিশ ধরায় যতো বেশি পাকা, সে ততো বেশি ইলিশ ধরতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Post

সুন্দরবনের বিপন্ন পাহারাদারসুন্দরবনের বিপন্ন পাহারাদার

প্রকৃতির অপরূপ রঙ আর শিল্পীর জলতুলির আঁচড়ে আঁকার মতো সুন্দরবন বৈচিত্র্যময় এক নিদর্শন। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী এই বনে রয়েছে ৪৪০টি বাঘ, দেড় লাখ হরিণ, ৫০ হাজার বানর, দেড়শ’ থেকে

ভাষা আন্দোলন ও বাংলাভাষা স্বীকৃতির ইতিহাসভাষা আন্দোলন ও বাংলাভাষা স্বীকৃতির ইতিহাস

শরীফ আবদুল গোফরান :: বাংলাভাষা বাঙালি মুসলিমদের মাতৃভাষা। এ ভাষা আমাদের জাতীয় ভাষা। এ কথা সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরীর পূর্বে কোনো অভিজাত মুসলিম এমন দৃপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করেননি। প্রকৃতপক্ষে তিনিই

ভাষা আন্দোলনভাষা আন্দোলন

জিবলু রহমান ।। বৃটিশ পরাধীনতার যুগে ১৯১৮ সালে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বাংলা ভাষাকে অভিভক্ত ভারতের রাষ্ট্রভাষার মর্যাদাদানের দাবি জানান। ১৯২১ সালে নবাব সৈয়দ নবাব আলী চৌধুরী বাংলা ভাষাকে বাংলার রাষ্ট্রভাষা