রোহিঙ্গাদের কান্নায় মানবতার পরাজয়
Categories:


এ পথে শুধু দুর্বল প্রতিপক্ষের রক্তই ঝরবে, তাদের কান্না থামানো যাবে না। মানবিকতা হবে ভূলুণ্ঠিত। সারা পৃথিবী আজ অশান্ত হয়ে উঠছে। কোনো রাষ্ট্রে শান্তি নেই। পৃথিবীর বড় বড় রাষ্ট্র শান্তি প্রতিষ্ঠায় একটা ভূমিকা নিতে পারে অথচ তারা আজ নিজেদের স্বার্থে কখনো চুপ আবার কখনো অন্তর্দ্বন্দ্ব-কলহে লিপ্ত। যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। নির্যাতিত হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের পাশে কেউ নেই। বাংলাদেশ থেকেও তাদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে। কেউ তাদের আশ্রয় দিতে চাচ্ছে না। বিশ্ববিবেক মনুষ্যত্ব আজ লোপ পেয়েছে, বিশ্বমানবতা আজ পদদলিত। কে শোনাবে তাদের আশার বাণী, কে জাগাবে আজ বিশ্ববিবেককে। মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের ওপর নারকীয় হামলায় সু চির নিশ্চুপয়তার কারণে গত অক্টোবরে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রত্যাহারের দাবিতে লাখ লাখ মানুষ সু চির নোবেল পুরস্কার ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদনে স্বাক্ষর করছেন। তবে নোবেল পুরস্কার প্রত্যাহারের নিয়ম থাক বা না থাক সেটা বড় কথা নয়। অং সান সু চি যে শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন এটাই কি সেই শান্তির নমুনা, একটি জনগোষ্ঠীকে উচ্ছেদ করা? শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার প্রধানতম অর্থ হচ্ছে, শান্তি প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা ও অবদান রাখা। কিন্তু তার সরকার যে অশান্তি সৃষ্টি করেছে তাতে কি নোবেল পুরস্কারের মর্যাদা ক্ষুণœ হচ্ছে না। আমরা মনে করি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমার সরকারকে দ্রুত ফিরিয়ে নিতে হবে। বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘের অন্যান্য শক্তিধর রাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের কান্না, নির্যাতন, মানবিক বিপর্যয় বন্ধ করতে হবে। রোহিঙ্গাদের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে হবে। য় মোহাম্মদ নজাবত আলী : শিক্ষক ও কলাম লেখক