ঈদ আনন্দের রকমফের

( মীম নোশিন নওয়াল খান ) :

 

 meemexঈদ উল ফিতর মুসলমান স¤প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। পবিত্র রমজান মাসজুড়ে সিয়াম সাধনার পর ঈদের দিন মুসলিমগন মেতে ওঠে নির্মল আনন্দে। আর ঈদের এই আনন্দকে স্বর্গীয় করে তোলে শিশু-কিশোররা এবং তাদের প্রানচাঞ্চল্য। তবে সবার জন্য ঈদ একরকম হয় না। ঈদের দিন যেমন অনেকে অন্ন্যান্ন দিনের মত বাবা-মা ও পরিবারের সান্নিধ্যে কাটায়,তেমনি অনেকদিন পর আপনজনদের কাছে পায়, তাও আবার অল্প কয়দিনের জন্য। আবার এমন অনেক শিশু-কিশোর আছে যারা ঈদ কাটায় মা কিংবা বাবা অথবা দুজনকে ছাড়াই, কারন তারা যে চলে গেছেন না ফেরার দেশে।

এক

তানহা। ওর পুরো নাম আনিকা বুশরা তানহা। পড়ে ভিকারুনন্নিসা নূন স্কুলের ইংরেজী মাধ্যমে পঞ্চম শ্রেনীতে। সে ঈদ উদযাপন করে বাবা-মা , ছোট ভাই বোন এবং অন্যন্য স্বজনদেও সাথে।ঈদ কাটে তার খুবই মজা করে। ঢাকার যান্ত্রীক জীবনে ঈদকে সে দেখে সারা বছর রুটিন কাজের মধ্যে বিরতি হিসেবে। ঢাকাতেই থাকে ওরা। ঈদ থেকে থেকে সে খোজে বছর জুরে কাজ করার অনুপ্রেরনা। সবার সাথে ঈদ করতে পেরে  নিজেকে ভাগ্যবতী মনে কওে তানহা। আর যারা এটা থেকে বঞ্চিত তাদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ কওে সে বলে, যারা ঈদে বাবা মাকে পাশে পায়না,তাদেন জন্য খুবই খারাপ লাগে। আমদের আব্বু আম্মুরা তাদেরকে নিজের সন্তানের মত দেখলে আমার ভালো লাগবে।

দুই

12715211_660893127386238_6469701991701772705_n

চার বোনের মধ্যে সবার ছোট সিনথিয়া। রাজধানীর একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য প্রকৌশলের ছাত্রী সে। পড়াশুনার সুবাদে ছোটবেলা থেকেই স্বজনদের কাছ থেকে দুরে অবস্থান তার। এখনও থাকে একটি ছাত্রী হোস্টেলে। ঈদ কাটে বাবা – মা এবং আপুদের সাথে খুলনার নিজ বাড়িতে। তবে আপুদের সবার বিয়ে হয়ে যাওয়ায় বিশেষ দিন গুলোতেও একত্র হওয়া হয়ে ওঠে না। এ নিয়ে আক্ষেপের শেষ নেই সিনথিয়ার। ঈদেও ছুটি শেষ হয়ে গেলেও আসতে ইচ্ছে করেনা পরিবার ছেড়ে। স্বান্তনা মাঝে মাঝে দেখা হয় আব্বু-আম্মুর সাথে। তবে একা একা থেকে যে অবাধ স্বাধীনতা পায় সিনথি, তাও আবার তার ভালো লাগেনা। কার কথা হলো – আমি মনে করি, আমাকে সঠিক দিক নিদের্শনা দেয়ার জন্য কারো থাকা দরকার ছিলো।কারন একা একা কোন কিছুতেই ভালো করা সম্ভব নয়।

তিন

আদিব পড়াশুনা করছে আইডিয়াল স্কুলের বনশ্রী শাখায়। দু বোন, এক ভায়ের মধ্যে ছোট সে।মা স্কুল শিক্ষক। আর বাবা সবাইকে ছেড়ে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। তাই পিতৃ স্নেহ থেকে বঞ্চিত আদিব।  দেও দিনটি বন্ধুদের সাথে মজা কওে কাটায় সে। বাবাকে সে মিস করেনা এ দিনটিতেও, এমনটিই আদিবের বক্তব্য। কে জানে হয়তোবা বাবার প্রতি অভিমান থেকেই তার এ কথা। না হলে সে এ কথা কি কওে বলে- সবাই যখন বাবার বকা খেয়ে মন খারাপ করে, তখন মনে হয় আমার বাবা যদি আমাকে বকতো , সেটাও ভালো ছিলো !।

তবে যে যেভাবেই উপভোগ করুকরা কেন, ঈদ সবার জন্যই বয়ে আনে অফুরান আনন্দের। কারন, ঈদ মানেইতো আনন্দ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Post

পৃথিবীটা আসলে ভাল জায়গাই!পৃথিবীটা আসলে ভাল জায়গাই!

মেয়েকে বোঝাতে হবে সতর্কতা কতটা জরুরি। বুঝিয়ে দিতে হবে, মানুষ চিনতে শেখা কতটা দরকার। মানছি, মাঝে মাঝে নিজেদেরও এটা বোঝানো কঠিন হয়ে পড়ে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যে সব খবরের মাঝে বাস করি আমরা, তাতে সেটা অস্বাভাবিকও নয়। বিশেষ করে যাঁরা টিনএজার মেয়েদের বাবা-মা, তাঁরা যে দুশ্চিন্তায় ভুগবেন, সেটা খুবই স্বাভাবিক। কারণ আশপাশের পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, বাস্তব পৃথিবীই হোক বা ভার্চুয়াল জগৎ, মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে খুব সিরিয়াসলি ভাবনাচিন্তা করার সময় এসেছে। এরকম অবস্থায় কেউই কী করে নিশ্চিন্ত থাকতে পারে বলুন? কিন্তু আপনাদের তো দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়লে চলবে না। আপনাদের মেয়েও তো চারপাশের অবস্থা দেখছে, বুঝছে। ভয় কিন্তু সে-ও পাচ্ছে। আপনারাও যদি ভেঙে পড়েন, মেয়েকে কে বোঝাবে? তাকে বোঝাতে হবে সতর্কতা কতটা জরুরি। বুঝিয়ে দিতে হবে, মানুষ চিনতে শেখা কতটা দরকার। আর সবচেয়ে বড় কথা, মেয়েদের মনে এই বিশ্বাসের ভিত গড়ে দিতে হবে যে, ভাল-খারাপ সর্বত্রই থাকে। কিন্তু পৃথিবীটা আসলে ভাল জায়গাই! প্রথম কথা… যেটাকে বাবা-মা এবং যে কোন বয়সি ছেলেমেয়ের সম্পর্কের থাম্বরুল বলা যায়… তা হল, সন্তানের বন্ধু হয়ে ওঠা। এই অভ্যেসটা যদি ছোটবেলা থেকে করে ফেলতে পারেন, যদি ছোট থেকেই সন্তানের জীবনে কী ঘটছে, তা নিয়ে সে আপনার সঙ্গে গল্পগুজব করতে পারে, তাহলে টিন-এজে পৌঁছেও তার সেই অভ্যেস থেকে যাবে। কার সঙ্গে সে মিশছে, কারা তার প্রতি ‘অ্যাডমিরেশন’ দেখাচ্ছে, বা কেউ কোনওভাবে তার বিরক্তি বা অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠছে কি না… কোনওকিছুই আপনাদের বলতে সে দ্বিধা করবে না। সম্পর্কে এই স্বচ্ছতাটা সকলের আগে দরকার। সন্তানের বোঝা দরকার, যে আপনারা তার বন্ধু। আপনাদের কাছ থেকে কিছু লুকনোর কোনও দরকার নেই তার। বিশেষ করে, কারও কোনও ব্যবহারে যদি আপনাদের মেয়ে অস্বচ্ছন্দ বোধ করে,  আপনাদের সে কথা খোলাখুলি বলার মতো কমফর্ট যেন সে পায়। ওকে বুঝিয়ে দিন যে আপনারা সবসময়, সব অবস্থায় ওর পাশে রয়েছেন। পৃথিবীর আর পাঁচটা জিনিসের মতো সোশ্যাল মিডিয়ারও ভাল-খারাপ দু’দিকই রয়েছে। আর এর আকর্ষণ এমনই অমোঘ, যে এড়ানো যায় না। এড়াতে বলা উচিতও নয়। খালি একটু খেয়াল রাখুন, কারও সঙ্গে আপনার মেয়ের ভার্চুয়ালি বেশি বন্ধুত্ব হচ্ছে কি না। সে যতটা সময় সাধারণত সোশ্যাল মিডিয়ায় কাটায়, তার চেয়ে বেশি সময় কাটাচ্ছে কি না। অনেক রাত পর্যন্ত ফোন বা ল্যাপটপে আটকে রয়েছে কি না। যদি মেয়ে এমনিতে আপনাদের সব বলে কিন্তু দেখেন এই ব্যাপারটা এড়িয়ে যাচ্ছে… তাহলে কিন্তু এটা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করার সময় এসেছে। তা বলে হেলিকপ্টারিং করবেন না। বকাবকি তো করবেন না-ই। যদি মেয়ের কোনও ব্যবহার স্বাভাবিকের চেয়ে আলাদা লাগে, তার সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলুন। গল্পে গল্পে জানতে চান, তার সঙ্গে নতুন কারও বন্ধুত্ব হয়েছে কি না। নতুন বন্ধুর সম্পর্কে কতটা জানে সে। যে তথ্যগুলো সেই বন্ধু নিজের সম্পর্কে বলছে বা সোশ্যাল নেটওয়ার্কে দিয়েছে, সেগুলো আর-একবার খুঁটিয়ে দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিন। ‘তুই কিছু বুঝিস না’ জাতীয় কথা বলবেন না মেয়েকে। বরং তাকে বোঝান, যে তার বিচারবুদ্ধির উপর আপনাদের আস্থা রয়েছে। খালি চারপাশে বিপদের ভয় এত বেশি বলেই একটু বাড়তি সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তা হলে দেখবেন, মেয়েও আপনাদের বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতেই আরও সতর্ক হবে। কোথায় কী ঘটছে, কোনখানে অসতর্ক হলে বিপদে পড়তে হতে পারে… ইনফরমেশন বুমের কল্যাণে এসব তথ্য পেতে এখন আর আমাদের কোনওই অসুবিধা হয় না। খেয়াল রাখুন, মেয়ে যেন এগুলো সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকে। টিন-এজার মানে অনেকটাই বড় হয়েছে সে। যথেষ্ট বুদ্ধিমতীও। যদি চোখ-কান খোলা রাখে, তাহলে পরিস্থিতির গুরুত্ব নিজেই বুঝবে। আর সেটা যাতে রাখে, বাবা-মা হিসেবে তা দেখা আপনাদের দায়িত্ব। প্রয়োজন পড়লে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বাড়ির সকলে আলোচনাও করতে পারেন মাঝে মাঝে। কিন্তু আলোচনার সুর কীরকম হবে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন। অতিমারি এবং ইচ্ছেমতো বাইরে বেরতে না পারার কারণে পরিস্থিতি এমনিই উদ্বেগে, বিষণ্ণতায় মাখামাখি হয়ে রয়েছে। আপনাদের কথায় যেন আপনাদের সন্তান আরও বেশি ভয়ের, বিষণ্ণতার শিকার না হয়ে পড়ে। সাবধানতা আর ভয়ের মাঝখানে একটা না-সরু, না-চওড়া গণ্ডি রয়েছে।  সেটা নির্ধারণ করে দেওয়া আপনাদের দায়িত্ব। সবচেয়ে বড় কথা… সন্তানকে রুখে দাঁড়াতে শেখান। সে নিজে যদি কখনও, কোথাও, কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি পড়ে, বা অন্য কাউকে পড়তে দেখে,

গ্রানাডা ট্র্যাজেডিগ্রানাডা ট্র্যাজেডি

মুসলমানদের ইতিহাস তাদেরকে আবারো বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য নেতৃত্বের আসনে সমাসীন হওয়ার প্রেরণা যোগায়। মুসলমানরা জ্ঞান-বিজ্ঞান, ইতিহাস-ঐতিহ্যে সর্বকালের সেরা জাতি হিসেবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু ইসলাম বিদ্বেষীরা মুসলমানদের

নবজাতকেরও মাথাপিছু ঋণ এক লাখ ৫ হাজার টাকা ।নবজাতকেরও মাথাপিছু ঋণ এক লাখ ৫ হাজার টাকা ।

দেশে ঋণের বোঝা বাড়ছে। আজ যে শিশুটি জন্ম নেবে, তার মাথায় ১ লাখ ৫ হাজার ২৫২ টাকা ঋণের দায় চাপবে। কারণ বর্তমানে দেশের প্রতিটি নাগরিকের মাথা পিছু এই পরিমাণ ঋণ