Children Communication Network ক্রিড়া বিশ্বকাপ ফুটবলে কোন দল কী পরিমাণ অর্থ পাবে

বিশ্বকাপ ফুটবলে কোন দল কী পরিমাণ অর্থ পাবে

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই শুধু গৌরবের লড়াই নয়, সঙ্গে থাকে বিপুল অঙ্কের অর্থ পুরস্কারও। এবারের বিশ্বকাপে সেই পুরস্কারের অংক ইতিহাসের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠেয় এবারের বিশ্বকাপ হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর।

৪৮ দল নিয়ে এ আয়োজনে ৩৯ দিনে অনুষ্ঠিত হবে ১০৪টি ম্যাচ। দল ও ম্যাচসংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে টুর্নামেন্টের আর্থিক পুরস্কারও। ফিফা প্রাথমিকভাবে ঘোষণা করেছিল, মোট পুরস্কারের পরিমাণ হবে ৭২৭ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮ হাজার ৯৬৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা)। সেই পরিমাণ ২০২২ সালে কাতারে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টে বিতরণ করা তহবিলের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি।

কিন্তু এপ্রিলে ফিফা মূল অংশগ্রহণ পুরস্কার এবং প্রস্তুতি ফি বাড়িয়ে মোট পুরস্কারের পরিমাণ আরও বাড়ানোর অনুমোদন দেয়। ফলে ৪৮ দলের এই আসরের জন্য সব মিলিয়ে মোট ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রাইজমানি ঘোষণা করেছে ফিফা, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকার সমান। এই পুরস্কারের পরিমাণ কাতার বিশ্বকাপের প্রাইজমানির (৪৪০ মিলিয়ন ডলার) চেয়ে ৬৫ শতাংশ বেশি।

সংবাদমাধ্যম বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপের প্রাইজমানির ৮৭১ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে পারফরম্যান্সভিত্তিক পুরস্কারের অর্থ ৬৫৫ মিলিয়ন ডলার (৮ হাজার ৮১ কোটি টাকা)। বাকি ২১৬ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা) প্রস্তুতি, লজিস্টিকস ও অন্যান্য সহায়তা (যেমন: ভ্রমণ, আবাসন এবং প্রতিনিধি দল পরিচালনা) বাবদ খরচ হয়। এসব অর্থ সরাসরি খেলোয়াড়দের কাছে না গিয়ে জাতীয় ফেডারেশনগুলোর কাছে যায়। সাধারণত এসব অর্থের ২০-৩০ শতাংশ পেয়ে থাকেন খেলোয়াড়রা।

ফিফার ঘোষণা অনুযায়ী, অংশ নেওয়া প্রতিটি দল টুর্নামেন্টে খেলার যোগ্যতা অর্জনের জন্য ১০ মিলিয়ন ডলার এবং ভ্রমণ, লজিস্টিকস, প্রশাসনিক ব্যয় ও প্রতিনিধি দলের খরচ হিসেবে আরও ২.৫ মিলিয়ন ডলার নিশ্চিতভাবে পাচ্ছে।

উল্লেখ্য, কোয়ালিফাইয়ে ১০ মিলিয়ন ডলার করে দেওয়া অর্থ ফিফার টেলিভিশন সম্প্রচার স্বত্ব, স্পন্সরশিপ, টিকিট ও হসপিটালিটি এবং লাইসেন্সিং থেকে অর্জিত বাণিজ্যিক আয়ের অংশ। এটি কোনো পারফরম্যান্স বোনাস নয়, বরং কোয়ালিফিকেশন ফি, যা সরাসরি সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবল ফেডারেশনকে দেওয়া হবে।

ফলে ফিফার ঘোষণা অনুযায়ী কোয়াইলিফাই করায় ১২.৫ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫৪ কোটি ২২ লাখ টাকা) অর্থের পাশাপাশি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন দল পারফরম্যান্সভিত্তিক পুরস্কার হিসেবে পাবে আরও ৫০ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬১৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা), যা ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার পাওয়া অর্থের চেয়ে ৮ মিলিয়ন ডলার বেশি।

এছাড়া রানার্সআপ দল পাবে আরও ৩৩ মিলিয়ন ডলার (৪০৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা), তৃতীয় স্থান অধিকারী দল ২৯ মিলিয়ন ডলার (৩৫৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা) এবং চতুর্থ স্থান অর্জনকারী দল পাবে ২৭ মিলিয়ন ডলার (৩৩৩ কোটি ১২ লাখ টাকা)।

কোয়ার্টার ফাইনালে বাদ পড়া দলগুলো ১২.৫ মিলিয়ন ডলারের পাশাপাশি পাবে আরও ১৯ মিলিয়ন ডলার (২৩৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা) করে। সে হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বাদ পড়া ৪টি দল (মরক্কো, বেলজিয়াম, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড) পাচ্ছে ৩১.৫ মিলিয়ন ডলার করে।

এছাড়া শেষ ষোলোয় বাদ পড়া দলগুলো পাচ্ছে ১৫ মিলিয়ন ডলার (১৮৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা) করে। এ পর্বে বাদ পড়া দলগুলো হলো-ব্রাজিল, মেক্সিকো, পর্তুগাল, যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, কলম্বিয়া, কানাডা ও প্যারাগুয়ে। এসব দল পাবে মোট ২৭.৫ মিলিয়ন ডলার করে।

রাউন্ড অব ৩২ থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলোর জন্য প্রাইজমানি হিসেবে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১১ মিলিয়ন ডলার (১৩৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা) করে। সে হিসেবে জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ক্রোয়েশিয়া, জাপান, সুইডেন, দক্ষিণ আফ্রিকা, সেনেগাল, আলজেরিয়া, আইভরিকোস্ট, ইকুয়েডর, ডিআর কঙ্গো, বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, অস্ট্রিয়া, কেপ ভার্দে, অস্ট্রেলিয়া ও ঘানা কোয়ালিফাই ও প্রস্তুতি খরচের ১২.৫ মিলিয়ন ছাড়াও প্রাইজমানি হিসেবে পাচ্ছে আরও ১১ মিলিয়ন ডলার অর্থ্যাৎ ১৩৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা করে।

গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিলেও কোনো দল খালি হাতে ফিরবে না। এ পর্যায়ে বিদায় নেওয়া প্রতিটি দল পাবে আরও ৯ মিলিয়ন ডলার (১১০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা)। গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়া দল ১৬টি দল হলো দক্ষিণ কোরিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, কাতার, স্কটল্যান্ড, হাইতি, তুরস্ক, কুরাসাও, তিউনিসিয়া, ইরান, নিউজিল্যান্ড, উরুগুয়ে, সৌদি আরব, ইরাক, জর্ডান, উজবেকিস্তান ও পানামা।

ফিফা জানিয়েছে, এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নেওয়ায় ম্যাচসংখ্যা, সম্প্রচারস্বত্ব, বাণিজ্যিক আয় এবং স্পনসরশিপ থেকে আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেই অতিরিক্ত আয়ের একটি বড় অংশ অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে বণ্টন করতেই এবারের বিশ্বকাপের প্রাইজমানি রেকর্ড পরিমাণে বাড়ানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Post

যা ভেবে মেসিকে মায়ামিতে নিচ্ছেন বেকহামযা ভেবে মেসিকে মায়ামিতে নিচ্ছেন বেকহাম

মেজর লিগ সকারের দল ইন্টার মায়ামির মালিকানায় আছেন সাবেক ইংল্যান্ড মিডফিল্ডার ডেভিড বেকহাম। তিনি ফ্লোরিডাভিত্তিক ক্লাবটির সভাপতিও। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া ইন্টার মায়ামিতে খেলতে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ককে রাজি করানোর ব্যাপারে

বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসবিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাস

ফিফা বিশ্বকাপ ( FIFA World Cup) (ফুটবল বিশ্বকাপ, অথবা শুধু বিশ্বকাপ নামেও পরিচিত) একটি আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতা যেখানে ফিফা অর্থাৎ “আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা”) সহযোগী দেশগুলোর পুরুষ জাতীয় ফুটবল দল অংশ নেয়। ফিফা বিশ্ব ফুটবল নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা। ১৯৩০

একাদশ টেস্ট খেলুড়ে দেশ হতে যাচ্ছে আয়ারল্যান্ড ?একাদশ টেস্ট খেলুড়ে দেশ হতে যাচ্ছে আয়ারল্যান্ড ?

মরুশহর দুবাইয়ে সদ্য সমাপ্ত ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-এর দু’দিনব্যাপী বৈঠকে সংস্থাটি টেস্ট খেলুড়ে দেশের সংখ্যা দশ থেকে এগারোতে উন্নীত করার বিষয়ে আলোচনা করেছে। ইএসপিএন ক্রিকইনফোর এক রিপোর্টে এরকম খবরই জানা