Children Communication Network প্রতিবেদন ইসলাম ধর্মে যিশু ও মেরিকে কীভাবে দেখা হয়?

ইসলাম ধর্মে যিশু ও মেরিকে কীভাবে দেখা হয়?

যখন বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষ, বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলো যিশুর জন্ম উদযাপন করে, তখন প্রশ্ন ওঠে যে মুসলমানরা ভার্জিন মেরি অর্থাৎ কুমারী মরিয়ম এবং তার পুত্র জেসাস বা যিশু বা নবী ঈসাকে কীভাবে দেখে?

বিশ্বব্যাপী যিশুর অনুসারীর সংখ্যা সর্বাধিক। এরপর দ্বিতীয় অবস্থানেই রয়েছে মুসলমানরা।

ইসলামের জন্য তাদের নবী ঈসার মা এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে কোরানের একটি সূরার নাম ‘মরিয়ম’ রাখা হয়েছে।

তিনিই একমাত্র নারী, যাকে মুসলমানদের পবিত্র গ্রন্থে নাম ধরে উল্লেখ করা হয়েছে।

কোরানের ১১৪টি সূরার মধ্যে ১৯ নম্বর সূরাটি ওই নারীর নামে নামকরণ করা হয়।

“মরিয়মের নাম ক্যানোনিকাল গসপেলগুলোয় যতবার বলা হয়েছে তার চাইতে বেশি বলা হয়েছে কোরানে। কোরানের কমপক্ষে ৭০টি আয়াতে মরিয়মের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।”

জন ইউনিভার্সিটির থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজের অধ্যাপক জেকি সারিটোপ্রাক যুক্তরাষ্ট্রের, অক্সফোর্ড বিবলিওগ্রাফিজ ওয়েবসাইটে “মেরি ইন ইসলাম” লেখায় এই তথ্য জানান৷

আমার মনে আছে, ২০০৮ সালে যখন লন্ডনের মুসলিম ওয়েলফেয়ার হাউসের মুখপাত্র, আহমেদ মাহির সাবিকের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম, তিনি যেভাবে মরিয়মের কথা বলেছিলেন তাতে আমি মুগ্ধ হয়েছি।

আহমেদ মাহির সাবিক বলেছিলেন, “যখন আমরা মরিয়মের নাম উল্লেখ করি তখন আমরা ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ’এই বাক্যাংশটি যোগ করি, যার অর্থ ‘তার উপর শান্তি বর্ষিত হোক।’ “

“মরিয়ম মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত একজন নারী এবং যারা তাকে সম্মান করে না তাদেরকে মুসলমান বলে গণ্য করা হয় না,” তিনি বলেন।

নামের চাইতেও বেশি কিছু

মুসলমানদের মতে, নবী ঈসার জন্মের ছয় শতাব্দী পরে কোরান নাজিল হয়।

ঈশ্বর (ইসলাম ধর্মানুযায়ী আল্লাহ) সে সময় ফেরেশতা জিবরাইলের (খ্রিস্টান ধর্মমতে দেবদূত গ্যাব্রিয়েল) মাধ্যমে, ইসলামের নবী মুহাম্মদের কাছে কোরান নাজিল করেন।

খ্রিস্টান এবং ইসলাম ধর্ম অনুসারে, গ্যাব্রিয়েল বা জিবরাইল প্রথমবারের মতো মেরি বা মরিয়মকে জানান যে তিনি গর্ভবতী।

ইসলামের সাহিত্য অনুসারে কোরানে, নবী মুহাম্মদের পরিবারের যেকোনো সদস্যের চেয়ে মরিয়মের নাম বেশি বার উল্লেখ করা হয়েছে।

মাহির সাবিকের মতে, ইসলামে মরিয়মের মূল তাৎপর্য হল তিনি নবী ঈসার মা ছিলেন।

মুসলমানদের জন্য, নবী ঈসা ছিলেন-ইব্রাহীম, মুসা, মুহাম্মদের মতো – ঈশ্বরের নবী।

খ্রিস্টধর্মের মতো ইসলামও বিশ্বাস করে যে, যিশুকে গর্ভে ধারণ করা ছিল একটি অলৌকিক ঘটনা।

সূরা আল ইমরানে এই ঘটনার বর্ণনা দেয়া হয়েছে যেখানে মরিয়মকে “সুসংবাদ” জানানো হয়, এই বলে যে তিনি এমন একজনের মা হবেন যিনি মেসাইয়াহ বা আল্লাহর রসূল হবেন।

এ নিয়ে মরিয়মের প্রতিক্রিয়া কোরানের ৪৭ নম্বর আয়াতে উঠে এসেছে।

“হে ঈশ্বর! আমাকে কোন পুরুষ স্পর্শ না করা সত্ত্বেও আমার সন্তান হবে কিভাবে?”

পরবর্তীতে, নবীদের সূরায়, মরিয়মের সতীত্বের উপর জোর দেওয়া হয়েছে:

“এবং মরিয়ম এমন একজন যিনি তার কুমারীত্ব রক্ষা করেছিলেন, তারপর আমি তার ভেতর আমার রূহ ফুঁকে দিয়েছিলাম এবং তাকে ও তার পুত্রকে সমগ্র জগতবাসীর জন্য এক নিদর্শন বানিয়েছিলাম।”

একার শক্তি

যদিও উভয় ধর্মই মরিয়মের প্রশংসা করেছে, তবে যিশুর মা-কে নিয়ে গল্পগুলোয় কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভিন্নতা রয়েছে।

ইসলাম ধর্মে নবী ইউসুফের (খ্রিস্টান ধর্মমতে জোসেফ) কথা কোথাও উল্লেখ করা হয়নি, যেখানে কিনা খ্রিস্টানদের ধর্মগ্রন্থ বাইবেল অনুসারে মেরি ছিলেন জোসেফের বাগদত্তা।

অন্যদিকে ইসলাম ধর্মমতে, নবী ঈসার মা যখন গর্ভবতী হয়েছিলেন তখন তিনি বিবাহিত ছিলেন না অর্থাৎ কুমারী ছিলেন।

মাহির সাবিক ব্যাখ্যা করেছেন, মরিয়ম তার পরিবার এবং তার সম্প্রদায় থেকে দূরে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন যেন তিনি একটি খেজুর গাছের ছায়ায় একা একা বাচ্চা প্রসব করতে পারেন।

কোরানে সূরা মরিয়মের ২২ থেকে ২৫ আয়াতে নবী ঈসার জন্মের কথা বর্ণনা করা হয়েছে।

“অতঃপর তিনি গর্ভে সন্তান ধারণ করলেন এবং একটি নির্জন স্থানে চলে গেলেন। প্রসব বেদনায় তিনি এক খেজুর গাছের নীচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। সন্তান প্রসবের বেদনায় তিনি বলেছিলেন: ‘এর আগেই যদি আমি মরে যেতাম আর মানুষের স্মৃতি থেকে পুরোপুরি মুছে যেতাম!’”

“অতঃপর ফেরেশতা তাকে নীচ থেকে আওয়াজ দিলেন যে, তুমি দুঃখ করো না। তোমার পালনকর্তা তোমার পায়ের তলায় এক নহর বইয়ে দিয়েছেন।”

“তুমি তোমার দিকে খেজুর গাছের কাণ্ড নাড়া দাও, সেটি তোমার সামনে তাজা, পাকা খেজুর ফেলতে থাকবে।”

মরিয়ম হলেন মুসলমানদের জন্য পবিত্রতার আরেক নাম। তিনি এমন এক নারী যিনি ঈশ্বরের সেবা করতেন।

এক নারীর সাহসিকতা

সারিটোপ্রাকের মতে, ইসলামে মরিয়মের গুরুত্বের আরেকটি দিক হল যে কোরানের কিছু আয়াতে নবী ঈসাকে “মরিয়মের পুত্র” হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

যদিও ইসলামের ইতিহাসে এমন অনেক নারী আছেন যাদেরকে মুসলিমরা প্রশংসা করেন। যেমন নবী মুহাম্মদের স্ত্রী এবং কন্যা।

মরিয়ম তাদের অনেকের জন্য একটি আদর্শ ছিলেন। আসমা রেজকি নামে এক মুসলিম তরুণী সারিটোপ্রাককে ২০০৮ সালে এ কথা বলেছিলেন।

রেজকি তাকে বলেছিলেন, “বিশ্বের সব নারীদের মধ্যে মরিয়মকে, ঈশ্বর তাঁর নবীর মা হওয়ার জন্য মনোনীত করেছিলেন। “

“তিনি পবিত্রতার প্রতীক এবং ঈশ্বরের কাছে আত্মসমর্পণের উদাহরণ,” বলেন রেজকি।

নবী ঈসার মা মুসলমানদের জন্য ধৈর্য ও সাহসের উদাহরণও বটে। কারণ তিনি যখন তার সম্প্রদায়ে ফিরে আসেন, তখন মরিয়মকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, যেমনটি সূরা মরিয়মের আয়াতগুলোয় বর্ণনা করা হয়েছে।

“অতঃপর তিনি তার সন্তানকে কোলে নিয়ে তার সম্প্রদায়ের সামনে হাজির হলেন। তারা বলল: হে মরিয়ম, তুমি তো এক অঘটন ঘটিয়ে বসেছ।”

“হে হারুনের বোন! তোমার পিতা কোন অসৎ ব্যক্তি ছিলেন না এবং তোমার মা ব্যভিচারিণী ছিলেন না।”

কোরান অনুসারে, নবী ঈসা নবজাতক হওয়া সত্ত্বেও কথা বলে ওঠেন: “আমি আল্লাহর বান্দা। তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং আমাকে একজন নবী করেছেন।”

অক্সফোর্ড বিবলিওগ্রাফি ওয়েবসাইটে যিশুর উপর যুক্তরাষ্ট্রের লুথার কলেজের অধ্যাপক রবার্ট শেডিংগারের লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে, “নবী ঈসা ইসলামিক ঐতিহ্যে এক বিশেষ ভূমিকা পালন করেন এবং প্রায়শই মুহাম্মদের পরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নবী হিসাবে তাকে বিবেচনা করা হয়।”

শেডিংগার বলেন, মূলত মুসলমানদের সাথে কথা বলার সময় আমি লক্ষ্য করেছি যে তারা যখন নবী মুহাম্মাদের নাম উল্লেখ করে, তখন তারা তার নাম উচ্চারণ করার পরে সাল্লাল্লাহু ওলায়হি ওয়াসসাল্লাম বা “তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক।”- এই বাক্যাংশটি যুক্ত করেন: তারা যখন নবী ঈসা সম্পর্কে কথা বলে তখনও একই কাজ করেন।

দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোয় যিশু এবং মেরি দুটি খুব জনপ্রিয় নাম, তেমনি মুসলিম বিশ্বে ছেলেদের ঈসা এবং মেয়েদের মরিয়ম নামটিও খুব প্রচলিত।

মিনার্ভার উপরে সেন্ট মেরির চিত্র, যেটি রোমের ছোটখাটো ব্যাসিলিকাগুলির মধ্যে একটি।

উপাসনা

ইসলাম এবং ক্যাথলিক ধর্মে মরিয়ম এবং তার পুত্রকে ঘিরে যেসব ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। সেখানে অন্যতম প্রধান অসঙ্গতির বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে।

ক্যাথলিকদের জন্য, ভার্জিন মেরি হলেন ঈশ্বরের মা এবং ঈশ্বর জেসাস বা যিশুর মধ্যে মানুষ রূপে আবির্ভূত হয়েছেন।

অন্যদিকে মুসলমানদের জন্য, নবী ঈসা ঈশ্বর নন। তাই, মরিয়ম ঈশ্বরের মা নন।

ইসলামে, মরিয়ম বা নবী ঈসা কাউকে ঈশ্বরের সামনে সুপারিশকারী হিসাবে দেখা হয়নি।

তারা মানুষ ছিলেন যাদের কাছে – ইসলাম ধর্ম অনুসারে – কিছুই প্রার্থনা করা বা চাওয়া যায় না বা চাওয়া হয় না।

“আমরা বিশ্বাস করি যে একমাত্র যিনি আমাদের ইহকাল ও পরকালে সাহায্য করতে পারেন, তিনি আল্লাহ (ঈশ্বর)। তাহলে আমরা কেন অন্য কারো উপাসনা করব যদি আল্লাহই সবকিছু করতে পারেন? …মরিয়ম আমাদের সাহায্য করতে পারবে না,” বলেন মাহির সাবিক।

“নবী ঈসার নাম কোরানে ২৫ বার উল্লেখ করা হয়েছে, তাকে ঈশ্বর প্রদত্ত এক অলৌকিক বিষয় হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। … শান্তির নবী হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে।”

“নবী ঈসা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে মুহাম্মদ আসবেন এবং তাই তাকে ইসলামের আগাম ঘোষণাদাতা বলা যেতে পারে,” ফিলিস্তিনি ইতিহাসবিদ তারিফ খালিদি “মুসলিমদের চোখে যিশু” নিবন্ধে এ কথা উল্লেখ করেন।

কোরানেও নবী ঈসার অলৌকিক কাজ করার ক্ষমতাকেও স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।

ইসলামে, আল্লাহর কোন নবীকে কোন ছবি বা প্রতিকৃতির মাধ্যমে তুলে ধরা নিষেধ।

প্রতিকৃতি

ক্যাথলিক গির্জা এবং খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বাড়ি, যানবাহন এবং পোশাকে মেরির বিভিন্ন প্রতিকৃতি দেখা যায়।

ক্যাথলিক গির্জা একটি বিষয় খেয়াল রাখে তা হল, তারা যখন মেরির প্রতি বিশ্বাস রেখে প্রার্থনা করে তখন সেটা যিশুর মায়ের প্রতিকৃতিকে উপাসনা করা হয় না।

তারা জোর দিয়ে আরো বলে যে, মেরির কাছে তারা যে মিনতি করে এর মধ্যমে তারা মূলত ঈশ্বরের কাছে সেই প্রার্থনা পৌঁছে দিতে তার মধ্যস্থতা কামনা করে। মিস্ট্রি অব হলি ট্রিনিটিতে এই ব্যাখ্যা দেয়া হয়।

ইসলামে, আল্লাহর কোন নবীকে কোন ছবি বা প্রতিকৃতির মাধ্যমে তুলে ধরা নিষেধ।

এ কারণে মসজিদে মানুষের কোন ছবি থাকে না। মসজিদের দেয়ালে আরবি ক্যালিগ্রাফিতে কোরানের আয়াত লেখা থাকে।

ইসলামের সুন্নি ধারাও মরিয়মকে প্রতিকৃতি রূপে প্রকাশ করাকে আপত্তিকর বলে মনে করে। যদিও অনেক শিয়া (ইসলাম ধর্মের আরেকটি শাখা) ইসলামি ব্যক্তিত্বের ছবি প্রকাশের ব্যাপারে বেশ নমনীয়।

মরিয়ম আল-মুকাদ্দাশ (দ্য অনারেবল সেন্ট মেরি) নামক এক ইরানি চলচ্চিত্রে কোরানের আয়াতগুলোকে পুনরায় গতিচিত্রে তুলে ধরা হয়।

যেখানে মরিয়মের গল্প বলা হয়েছে এবং সেখানে এক তরুণী অভিনেত্রী মরিয়মের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন।

যিশু যেভাবে মারা গেছেন, সেটা ইসলাম এবং ক্যাথলিক ধর্মে ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে।

আরেকটি অসঙ্গতি

ক্যাথলিক ধর্ম এবং ইসলামের মধ্যে জেসাস/যিশু বা নবী ঈসাকে নিয়ে মূল পার্থক্য হল ইসলামে তাকে একজন মানুষ হিসেবে বিবেচনা করার হয় এবং তাকে ঈশ্বর বা ঈশ্বরের পুত্র বলা হয় না।

সেইসাথে তিনি যেভাবে মারা গেছেন সেটা নিয়েও দুটি ধর্মে ভিন্ন ব্যাখ্যা আছে।

ইসলামী ঐতিহ্য অনুসারে, যিশু বা নবী ঈসাকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়নি।

“কোরান নবী ঈসাকে ক্রুশবিদ্ধ করা এবং পুনরুত্থান সম্পর্কে খ্রিস্টান বিশ্বাসকে অস্বীকার করে। বরং ইসলামে বলা হয়েছে, যদিও তাকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছে বলে মনে হয়, কিন্তু আসলে ঈশ্বর তাকে আগেই তুলে নিয়েছেন,” অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ইসলামিক স্টাডিজে এই তথ্য দেয়া হয়।

কোরানের ১৫৭ ও ১৫৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:

”যদিও তারা বলেছে: আমরা মরিয়মের পুত্র আরেকজন আল্লাহর নবী ইসাকে হত্যা করেছি, তারা সেটা বিশ্বাস করলেও আসলে তারা হত্যা করতে পারেনি বা ক্রুশবিদ্ধ করতে পারেনি। এবং যারা তার সম্পর্কে দ্বিমত পোষণ করেছে, বস্তুত: তারা এ সম্বন্ধে সন্দিহান ছিল, আসলে কী ঘটেছে, সেই সম্পর্কে তাদের কোন জ্ঞানই ছিল না। আর এটা নিশ্চিত যে, তারা তাকে হত্যা করেনি”

“কিন্তু আল্লাহ তাকে নিজের কাছে তুলে নিয়েছেন। আল্লাহ পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।”

এ ধরনের মতভেদ থাকা সত্ত্বেও নবী ঈসা ইসলামের প্রিয় একজন নবী। কেননা তিনি একজন শিক্ষক এবং আধ্যাত্মিক নেতা।

তবে মুসলমানরা তার জন্মদিন বা বড়দিন উদযাপন করে না।

ক্যাথলিক ধর্মের নেতারা শুরু থেকেই মেরি এবং জেসাস/যিশুর প্রতি ইসলামের গভীর শ্রদ্ধাকে স্বীকৃতি দিয়ে এসেছে।

অনেকের মতে, এটি উভয় বিশ্বের মধ্যে সংলাপ স্থাপনের সেরা সেতুবন্ধনগুলোর একটি।

 

 

মার্গারিটা রদ্রিগেজ

বিবিসি নিউজ ওয়ার্ল্ড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Post

মাধ্যমিক স্থরে গুরুত্বহীন হয়ে পরেছে সৃজনশীল অনেক বিষয়মাধ্যমিক স্থরে গুরুত্বহীন হয়ে পরেছে সৃজনশীল অনেক বিষয়

মাহবুব সৈকত :: গত এক দশকে যে কয়টি বিষয়ে এগিয়েছে দেশ তার মধ্যে শিক্ষা অণ্যতম।। বিগত বছরগুলোতে গর্ব করার মত সাফল্য এসেছে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিকে। কিন্তুু এত কিছুর পরেও শিক্ষার

‘ব্লু-হোয়েল’ সার্চে দ্বিতীয় বাংলাদেশ !!!‘ব্লু-হোয়েল’ সার্চে দ্বিতীয় বাংলাদেশ !!!

ভয়ঙ্কর ‘ব্লু হোয়েল’ গেম নিয়ে নানা রকম তথ্য ছড়াচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। আর এ থেকে বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার মানুষ ‘আরো বেশি আগ্রহী’ হয়ে উঠছে। অন্তত গুগল ট্রেন্ডিং রিপোর্ট তাই

বন্ধু হোক সন্তান!বন্ধু হোক সন্তান!

নিজের টেনশনের কথা চেপে না রেখে বরং ভাগ করে নিন ছেলেমেয়ের সঙ্গে। ওদের ভরসা জিততে গেলে ওদের বন্ধু হয়ে উঠুন। মনটা আজকাল ভাল থাকে না সায়ন্তনীর। অফিসে মনপ্রাণ ঢেলে কাজ করার পরেও যদি অফিস পলিটিক্সের শিকার হতে হয়, কারই বা মন ভাল থাকে? বাড়িতেও প্রিয়ম এসব কথা শোনায় আগ্রহ দেখান না সেভাবে। তিনি নিজের অফিস, বন্ধুবান্ধব নিয়েই ব্যস্ত, স্ত্রীয়ের সমস্যার ভাগ নেওয়ার জন্য খুব একটা সময় তাঁর হাতে থাকে না। আর মেয়ে নিকিতা তো নেহাতই ছোট, সবে ক্লাস এইট। তার সঙ্গে আর এসব কী আলোচনা করবেন সায়ন্তনী? ওই মেয়েকে নিয়েও হয়েছে তাঁর আর-এক জ্বালা। একটু বড় হওয়ার পর থেকে কারা যে মেয়ের বন্ধু, কাদের সঙ্গে সে মেশে… কিছুই আর বলে না মা’কে। আগে কত গল্প করত! এখন যে শেয়ার করা বন্ধ করে দিয়েছে নিকিতা, তাতেই বিপদে পড়েছেন সায়ন্তনী। মেয়েকে বোঝাতেও গিয়েছিলেন যে মায়ের সঙ্গে সবকিছু শেয়ার করা উচিত। সপাট জবাব দিয়েছে মেয়ে, “তুমি আমার সঙ্গে সব শেয়ার করো?” মুশকিলটা এখানেই। অনেক মা-বাবাই ভাবেন, ছেলেমেয়ে নেহাতই ছোট। নিজেদের কোনও কথা ওদের সঙ্গে শেয়ার করা যায় না। আবার আশা করেন, সন্তান এসে নিজেদের সব কথা বলবে তাঁদের। এমন একতরফা তো হয় না ব্যাপারটা! ওদের ভরসা পেতে গেলে আপনি যে ওদের ভরসা করেন, সেটা বুঝতে দিতে হবে। আপনি হয়তো ভাবছেন, ‘ভরসা করি না, কে বলল? কিন্তু নিজেদের সমস্যাগুলোর কথা ওদের বলে কী হবে? ওদের মনখারাপ হবে কেবল’। আপনার দিক থেকে দেখতে গেলে, খুব ভুল ভাবনাও নয়। মা-বাবারা তো চানই, যতদিন সম্ভব ছেলেমেয়েকে আগলে রাখতে। কোনও সমস্যা, কোনও কষ্টের আঁচ যাতে ওদের গায়ে না লাগে, তা নিশ্চিত করতে। কিন্তু জানেন কি, ওদের পৃথিবীটাও শুধুই হাসি-গান-আলো দিয়ে ভরা নয়? ওদেরও সমস্যা রয়েছে, যন্ত্রণা রয়েছে? সেগুলো হয়তো আমাদের বড়দের কাছে তেমন কিছু নয়, ওদের কাছে কিন্তু অনেকটাই! নিজেদের মতো করে সেগুলো সামলানোও ওদের কাছে যুদ্ধেরই মতো। সেই যুদ্ধে আপনাকে ওরা তখনই সঙ্গী করবে, যদি আপনিও নিজের লড়াইয়ে ওকে শামিল করেন। খুব বিরাট কিছু করতে হবে না। জাস্ট বাড়ি ফিরে ছেলেমেয়ের সঙ্গে খোলামনে গল্প করুন। সারাদিন কী কী হল, শেয়ার করুন। যদি কোনও সমস্যা হয়ে থাকে, সে কথাও। কী বলবেন, কতটা বলবেন, সেটা একান্তই আপনার উপর। অবশ্যই খুব জটিল কোন বিষয়ের ভার ওর উপর চাপিয়ে দেবেন না। কিন্তু ছোটখাটো সমস্যা বা কেউ আপনার কাজে অসুবিধা করছে… এ রকম বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। একেবারে ছোটদের কথা বলছি না, বুঝতেই পারছেন। স্কুলের একটু উঁচু ক্লাসে পড়ে, এমন বাচ্চাদের মধ্যে কিন্তু এগুলো বোঝার পরিণতিবোধ চলে আসে। তাদেরও কি আর ক্লাসে এরকম ছেলেমেয়ে থাকে না? এতে করে প্রথমত ওরা আপনাদের সঙ্গে নিজেদের রিলেট করতে পারবে। দ্বিতীয়ত, বুঝতে পারবে যে বাবা-মা ওকে বাচ্চা ভাবে না। গুরুত্ব দেয়। এই বিশ্বাসটা ওদের মধ্যে তৈরি হওয়া মানেই আপনিও ওর বিশ্বাস জিতে নিলেন! আগেই বলেছি, আপনার সন্তানও কিন্তু নিজের দুনিয়ায় নিজের মতো করে সমস্যা সামলায়। ফলে আপনার অনেক মুশকিলের সমাধান কিন্তু ও-ও নিজের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দিতে পারে। ধরুন অফিসে কেউ বিনা কারণে গসিপ করে আপনাকে নিয়ে। কিংবা কেউ অযথাই পেশাদারিত্বের গণ্ডি ডিঙিয়ে বেশি বন্ধুত্ব করতে চায় আপনার সঙ্গে। কাছাকাছি পরিস্থিতি হয়তো আপনার সন্তানের সঙ্গেও হয় ওর স্কুল বা কলেজে! তখন ও কী করে তা সামলায়? সেখান থেকেই হয়তো আপনিও কিছু ইনপুট পেয়ে গেলেন! তবে অবশ্যই সমস্যার গুরুত্ব বুঝে তা নিয়ে কথা বলুন। শুধু সমস্যার কথাই শেয়ার করবেন না নিশ্চয়ই। অফিসে আপনার যাঁরা বন্ধুবান্ধব রয়েছেন, তাঁদের ব্যাপারে গল্প করুন। কোনও চ্যালেঞ্জিং কাজের দায়িত্ব কীভাবে সামলান, সেই ঘটনা শেয়ার করুন। হালকা গসিপও চলতে পারে অবশ্যই। তবে কখনওই ঠাট্টার ছলেও অন্য কারও ব্যাপারে অসম্মানজনক মন্তব্য করবেন না। ওরাও কিন্তু তাহলে সেটাকেই ‘কুল’ ভেবে নেবে! ছেলেমেয়ের কাছ থেকে ওদের সারাদিনের কথাও জানতে চান। জানতে চাওয়ার মতো করে নয় কিন্তু। গল্পচ্ছলে। খুব কঠিনও হবে না ব্যাপারটা। আপনি যখনই ওদের সঙ্গে খোলামনে গল্প করবেন, ওরাও দেখবেন তা-ই করবে! নিজেদের জীবনের হাসি-মজার গল্পগুলোর পাশাপাশি সমস্যার কথাও ভাগ করে নেবে আপনার সঙ্গে। সকলে মিলে সমাধানের পথ খুঁজে বের করাও খুব কঠিন হবে না! তবে একটা জিনিস মাথায় রাখুন। সব বয়সের মানুষেরই নিজস্ব স্পেস লাগে। বয়ঃসন্ধির ছেলেমেয়েদের ক্ষেত্রে সেটা আরওই সত্যি। ওদের সেই স্পেসকে সম্মান করুন। যদি কোনও কথা ওরা বলতে না চায়, জোর করবেন না। ওদের সমস্যায় নিজেরা জড়িয়ে পড়বেন না। পথ দেখিয়ে দিন দরকার হলে, কিন্তু সামলাতে দিন ওদেরকেই। এগুলো জীবনের খুব জরুরি পাঠ। তবে কোনও ব্যাপারে যদি ওরা আপনাদের প্রত্যক্ষ সাহায্য চায়, সে কথা আলাদা। তখন তো পাশে থাকতেই হবে! মোট কথা একটাই। ছেলেমেয়েদের আর ছোট না ভেবে, বন্ধুর মতো করে মিশুন ওদের সঙ্গে। অনেক লাভ হবে তাতে। ওরা আপনাকে বিশ্বাস করবে। নিজেদের কথা আপনার সঙ্গে ভাগ করে নেবে। আর আপনারও ছোট-বড় সমস্যায় হয়তো নিজেদের মতো করে দিশা দেখাতে পারবে!